‘ভাইরাল’ বাবার ভালোবাসায় কাঁদছে–হাসছে অনেকে

 

বাবা–মেয়ের ভাইরাল হওয়া দৃশ্য

নওগাঁ শহরে জুয়েলারি ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদের বাসা। সেখানেই কয়েক দিন ধরে চলছে হইচই। কেউ আসছেন হাতে ফুল নিয়ে, কেউবা ফল। আসছেন সাংবাদিকেরাও। কারণ একটাই—ছোট্ট একটি ভিডিও। বাবা ও মেয়ের আবেগঘন সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে নেট দুনিয়ায়।

নূর নাহার, লামিয়া জান্নাত আর মালিহা জান্নাতের বাবা নূর মোহাম্মদ। গত ২৫ আগস্ট মেজ মেয়ে লামিয়া জান্নাত মা–বাবাকে না জানিয়ে ঢাকার বাসা থেকে হঠাৎ নওগাঁ চলে গিয়েছিলেন। দরজা খুলতেই বাবার সামনে দাঁড়ালেন তিনি। বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না নূর মোহাম্মদ। অবাক চোখে মেয়ের মুখে মুখ, কপালে কপাল রেখে যেন ছুঁয়ে দেখলেন—এ কি সত্যি! আলোয় নিয়ে দেখলেন মেয়ের মুখ। আবেগে ভেসে বললেন, ‘বিয়ে দিলে মেয়েরা হারায় যায়।’ পাশে দাঁড়িয়ে লামিয়ার খুনসুটি, ‘তাহলে কেন বিয়ে দিয়েছিলে?’

ছোট মেয়ে মালিহা এই মুহূর্তটি ধরে রাখেন মুঠোফোনে ক্যামেরায়। তারপর ফেসবুকে পোস্ট করতেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। কোটি কোটি মানুষ দেখেছেন ভিডিওটি। কেঁদেছেন, হেসেছেন, মুগ্ধ হয়েছেন অনেকেই। কেউ কেউ সন্তানের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কটা বন্ধুত্বপূর্ণ নয় বলে আক্ষেপও করছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, তাঁদের বাবা কেন নূর মোহাম্মদের মতো হলেন না।

        তিন মেয়ে নূর নাহার, লামিয়া জান্নাত আর মালিহা জান্নাতের সঙ্গে বাবা নূর মোহাম্মদ

সবাই কেন তাঁকে নিয়ে এত মাতামাতি করছে, তা শুরুতে বুঝতে পারেননি নূর মোহাম্মদ। পরে মেয়েদের কাছ থেকে জানতে পারেন, মেয়ে লামিয়ার সঙ্গে তাঁর একটি ঘরোয়া ছোট্ট ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তাঁর নামের আগে এখন ‘ভাইরাল’ শব্দটাও যোগ হয়েছে।

নূর মোহাম্মদের বড় মেয়ে নূর নাহার ও মেজ মেয়ে লামিয়া জান্নাতের শ্বশুরবাড়ি নওগাঁতেই। তাঁরা দুজনই ঢাকায় থাকেন। অনলাইনে ব্যবসা করেন। আর ছোট মেয়ে মালিহা নওগাঁয় স্নাতক তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন, তিনিও অনলাইনে ব্যবসা করেন।

গতকাল সোমবার লামিয়া জান্নাত টেলিফোনে প্রথম আলোকে বলেন, গত ২৫ আগস্ট মা–বাবাকে না জানিয়ে বান্ধবীর সঙ্গে তিনি নওগাঁ গিয়ে হাজির হন। বাসায় ঢুকে প্রথমে মা রাকিবা সুলতানাকে চমকে দেন। তখন বাবা নূর মোহাম্মদ বাসায় ছিলেন না। মা ও ছোট বোন মালিহা জান্নাতকে বলে দেন, তিনি ঢাকা থেকে এসেছেন—এ কথা যেন বাবা আগে থেকে জানতে না পারেন। তারপর বাবা যখন ফেরেন, দরজা খোলেন লামিয়া। চোখের সামনে মেয়েকে দেখে বাবা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। মেয়ের কপালের সঙ্গে নিজের কপাল ঘষা দেন, নাকের সঙ্গে নাক ঘষা দেন। আলোয় নিয়ে মেয়েকে দেখেন। তারপর আবেগে বলে ফেলেন, ‘বিয়ে দিলে মেয়েরা হারায় যায়।’ তখন লামিয়াও মজা করে বলতে থাকেন, ‘কেন বিয়ে দিয়েছিলে?

বাবা ও মেয়ের এই মুহূর্তের স্মৃতি ধরে রাখতে মালিহা মুঠোফোনে ভিডিও করে তা ফেসবুকে পোস্ট করেন।মালিহা জান্নাত বলেন, ‘আমাদের এই ভিডিও অনেকে নিজেদের বলে পোস্ট করছেন। বাবাকে তাঁদের বাবা হিসেবে দাবি করছেন। ঘটনা এমন দাঁড়িয়েছে, অনেকে আমাদেরই ভুয়া মনে করছে। অনেকে বলছে, ভাইরাল হওয়ার জন্যই আমরা এমন ভিডিও করেছি। তবে আমাদের প্রোফাইল ও পেজে গেলে যে কেউ দেখতে পাবেন—আমরা তিন বোন সব সময়ই বাবাকে নিয়ে নানা পোস্ট দিই, ভিডিও শেয়ার করি। এই ভিডিওটা মানুষ পছন্দ করবে, ভাইরাল করবে, তা তো আর জানতাম না। মা দরজায় বোনকে দেখে অবাক হওয়ার সময়ও ভিডিও করেছিলাম। মা নিজের ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করতে পছন্দ করেন না, তাই সেই ভিডিও আমরা শেয়ার দিইনি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন